গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার ধাপে ধাপে গাইড

গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড (বাংলা) — ৫০০০ শব্দ

গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল — ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বাংলা গাইড (বিস্তারিত)

এই গাইডটি তৈরি করা হয়েছে নতুন ও মাঝারি অভিজ্ঞতার ব্লগারদের কথা মাথায় রেখে। এখানে প্রতিটি ধাপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে — কিভাবে সাইট তৈরি করবেন, কনটেন্ট তৈরি করবেন, কীভাবে অ্যাডসেন্সে আবেদন করবেন, এবং রিভিউতে পাস করার পর কিভাবে আয় বাড়াবেন।

এই গাইডে কি কি থাকবে (টেবিল অব কনটেন্টস)
  1. অ্যাডসেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে
  2. নিস বেছে নেওয়া: লাভজনক ও নিরাপদ অপশন
  3. ডোমেইন, হোস্টিং, প্ল্যাটফর্ম (Blogger vs WordPress)
  4. ব্লগ সেটআপ: প্রয়োজনীয় পেজ ও টেমপ্লেট
  5. কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি: কতগুলো আর্টিকেল ও কীভাবে লেখা উচিত
  6. SEO, সাইট স্পিড ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স অপ্টিমাইজেশন
  7. ট্রাফিক বাড়ানোর কৌশল (অর্গানিক ও সোশ্যাল)
  8. অ্যাডসেন্স আবেদন করার বাস্তব ধাপ
  9. রিভিউর সময় করণীয় ও সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান
  10. রিজেকশন হলে কিভাবে ঠিক করবেন
  11. অ্যাপ্রুভাল পরে করণীয়: নীতি মেনে আয় বাড়ানো
  12. চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও FAQ

অ্যাডসেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে

গুগল অ্যাডসেন্স হলো গুগলের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক — যেখানে ওয়েবসাইট মালিকরা তাদের সাইটে গুগলের বিজ্ঞাপন (Ads) দেখিয়ে আয় করতে পারেন। বিজ্ঞাপনগুলো সাধারণত টেক্সট, ইমেজ, রেসপন্সিভ বা ভিডিও আকারে হয়। বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয় ক্লিক বা ইমপ্রেশন ভিত্তিতে — যা নির্ভর করে বিজ্ঞাপকের বিড, রিলেভ্যান্স ও ইউজারের মাইন বলে।

ব্লগার হিসেবে শুরুতে মনে রাখবেন: Adsense শুধু আয় বাড়ানোর উপায়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভরসা রাখার জন্য ভাল কনটেন্ট, ভিজিটর লয়ালটি ও অ্যালায়েড রিভেনিউ সিস্টেম (Affiliates, Sponsored) জরুরি।

নিস বেছে নেওয়া: লাভজনক ও নিরাপদ অপশন

নিস নির্বাচন সেই সিদ্ধান্ত যা আপনার ব্লগের ভবিষ্যৎ আয় ও প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করে। নিস নির্বাচন করলে লক্ষ্য পাঠক নির্ধারণ করা সহজ হয় এবং কনটেন্ট তৈরির দিকনির্দেশনা মেলে।

উচ্চ-গতিপথ (High CPC) এবং নিরাপদ নিস

  • ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স (Savings, Insurance, Banking)
  • টেক রিভিউ ও সফটওয়্যার টিউটোরিয়াল
  • শিক্ষা (Exam guides, Scholarships)
  • হেলথ ও ফিটনেস (General advice, Nutrition tips — কিন্তু মেডিকেল অ্যাডভাইস নয়)
  • বিভিন্ন পণ্য রিভিউ (Affiliate-friendly)

অপরদিকে, এডাল্ট, হ্যাকিং, গ্যাম্বলিং, পিরেসি ইত্যাদি নিস এড়িয়ে চলুন—এসব নিসে প্রায়শই অ্যাডসেন্স অনুমোদন কঠিন হয়ে যায় অথবা অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়ে।

ডোমেইন, হোস্টিং, প্ল্যাটফর্ম

অ্যাডসেন্স approval পেতে custom domain ব্যবহার করাই উত্তম। ফ্রি সাবডোমেইন (যেমন example.blogspot.com) থেকে শুরু করলে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকে।

ডোমেইন কেন জরুরি?

কাস্টম ডোমেইন পেশাদার দেখায়, ব্র্যান্ডিং সহজ হয় এবং গুগল রিভিউয়াররা সেটাকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। ডোমেইন কেনার জন্য Namecheap, Google Domains, Hostinger ইত্যাদি ভালো বিকল্প।

হোস্টিং বেছে নেওয়া

শেয়ারড হোস্টিং দিয়ে প্রথমে শুরু করতে পারেন; তবে সাইট লোড দ্রুত রাখতে ভালো হোস্ট নিন। Hostinger, SiteGround, Stage, বা স্থানীয় নির্ভরযোগ্য হোস্ট ব্যবহার করা যায়। SSL (https) অবশ্যই চালু রাখতে হবে—গুগল সুরক্ষিত সাইটকে প্রাধান্য দেয়।

Blogger vs WordPress

  • Blogger: দ্রুত সেটআপ, ফ্রি এবং Google-সম্পন্ন। তবে কাস্টমাইজ সীমিত।
  • WordPress: বেশি কাস্টমাইজেশন, প্লাগইন সাপোর্ট—বিশেষত SEO ও স্পিড অপ্টিমাইজেশনের জন্য ভালো।

নতুনদের জন্য Blogger সুবিধাজনক; যদি ভবিষ্যতে স্কেল করতে চান তাহলে WordPress (.org) অনুকূল।

ব্লগ সেটআপ: প্রয়োজনীয় পেজ ও টেমপ্লেট

অ্যাডসেন্স রিভিউর সময় গুগল চাইবে আপনার সাইটে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য থাকা—যা ইউজারকে বোঝায় সাইট সত্যিই কাজ করছে এবং বিশ্বাস যোগ্য।

অবশ্যই থাকা প্রয়োজনীয় পেজ

  1. About: সাইট ও লেখক সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ।
  2. Contact: ইমেইল বা যোগাযোগ ফরম; সোশ্যাল লিংক দিলে ভালো অভিমত হয়।
  3. Privacy Policy: Google Analytics, Cookies, Data use—সব উল্লেখ থাকতে হবে।
  4. Disclaimer: বিশেষত মেডিকেল/ফাইন্যান্স কনটেন্টে—আবশ্যিক।
  5. Terms & Conditions: প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ করুন।

এই পেজগুলো না থাকলে অ্যাডসেন্স রিভিউ প্রায়ই রিজেকশনের কারণ হয়। তাই আবেদন করার আগে নিশ্চিতভাবে এগুলো live রাখুন।

কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি: কতগুলো আর্টিকেল ও কীভাবে লেখা উচিত

কনটেন্টই কিং। গুগল কনটেন্ট কোয়ালিটি দেখেই সাইট মূল্যায়ন করে। এখানে কিছু বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা—যা অনুসরণ করলে আপনার approval সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

কতগুলো আর্টিকেল?

অন্তত ১৫–২৫ ইউনিক আর্টিকেল থাকতে হবে—প্রতি আর্টিকেল কমপক্ষে ৮০০–১৫০০ শব্দ। কিন্তু সংখ্যা থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কনটেন্টের মান।

কীভাবে লিখবেন

  • টাইটেল স্পষ্ট ও কীওয়ার্ড-ফ্রেন্ডলি রাখুন।
  • H2/H3 ব্যবহার করে লজিক্যাল ব্রেক করুন—রিডেবিলিটি বাড়ে।
  • ইউজার-ইনটেন্ট মাথায় রেখে লেখা—প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান দিন।
  • উল্লেখযোগ্য সূত্র / সূত্রের লিংক দিন (বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে)।
  • ইমেজ ও ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করুন—তবে সকল ছবি compressed/optimized রাখুন।

SEO, সাইট স্পিড ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স অপ্টিমাইজেশন

গুগল কেবল কনটেন্টই দেখেন না—সাইট কিভাবে ইউজারদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করে, কত দ্রুত লোড হয় সেগুলোও যাচাই করে।

On-page SEO

  • Meta title ও meta description প্রতিটি পোস্টে যোগ করুন।
  • URL structure ক্লীন ও কীওয়ার্ড-অপ্টিমাইজড রাখুন।
  • Image alt text দিন—SEO ও accessibility দুটোতেই ভালো।

Site Speed

  • Image optimization (WebP বা compressed JPG, 100–200 KB target)
  • Minify CSS/JS, lazy loading enable করুন
  • Cloudflare বা অন্যান্য CDN ব্যবহার করুন
  • ব্লগারের ক্ষেত্রে 'Responsive' ও 'Lightweight' টেমপলেট নিন

ট্রাফিক বাড়ানোর কৌশল

প্রথম পর্যায়ে organic traffic বাড়ানো আপনার অ্যাপ্রুভাল সম্ভাবনা বাড়ায়। নিচে সাধারণ কিন্তু কার্যকর কৌশলগুলো দেয়া হলো।

SEO থেকে ট্রাফিক

  • Long-tail keywords টার্গেট করুন (কম প্রতিযোগী, কনভার্টেড ভিজিটর)।
  • Internal linking করে আপনি পেজ অথরিটি বাড়াতে পারেন।
  • Backlink পেতে গেস্ট পোস্টিং ও ফোরাম/QA সাইটে অংশ নিন (Quora, Reddit)।

Social media

  • Facebook page/group থেকে প্রতিদিন বা নিয়মিত শেয়ার করুন।
  • Pinterest — ব্লগ ট্র্যাফিক বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর (বিশেষ করে রেসিপি, DIY, হেলথ, ফ্যাশন)।
  • Telegram/WhatsApp গ্রুপে নতুন পোস্ট শেয়ার করুন—শুরুতে এটি কাজে লাগে।

অ্যাডসেন্স আবেদন করার বাস্তব ধাপ

যখন সাইট প্রস্তুত মনে হবে (প্রয়োজনীয় পেজ, ১৫–২৫ আর্টিকেল, মৌলিক ট্রাফিক), তখন নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

  1. Adsense.com-এ গিয়ে Google Account দিয়ে সাইন ইন করুন।
  2. ‘Get Started’ → সাইট URL (https://yourdomain.com) দিন।
  3. Payee name, country, address সঠিকভাবে পূরণ করুন (PIN verification later)।
  4. প্রদান করা কোড কপি করে Blogger/WordPress header-এ paste করুন যাতে Google validate করতে পারে।
  5. Code detect হলে message দেখাবে: ‘Ready to review’ — তারপর Google review শুরু করবে।

Review সময় সাধারণত ৩–১৪ দিন লাগতে পারে—কখনো দ্রুত, কখনো ধীর। এই সময় কিছু minor changes করে চলতে পারেন।

রিভিউর সময় করণীয় ও সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান

রিভিউ চলাকালে এরকম সমস্যা দেখা দিতে পারে—এগুলো কীভাবে handle করবেন নিচে দেয়া হল।

কোনো তাত্ক্ষণিক পরিবর্তন করবেন না

Review সময় large structural changes বা heavy ad placements না করাই ভালো। কিন্তু যদি কোনো critical issue (missing pages, broken links) থাকে তা ঠিক করুন।

রিভিউ চলাকালে কী চেক করে নেবেন

  • All pages accessible (no 404s)
  • Mobile friendly rendering
  • No overuse of affiliate redirects or cloaking
  • Clear navigation & working contact form

রিজেকশন হলে কিভাবে ঠিক করবেন

রিজেকশন খুবই কমন—এটি সমাধানযোগ্য। নিচে step-by-step করা হলো:

  1. রিজেকশনের মেসেজ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন: Google সাধারণত কোন policy breach বা quality issue বলে দেয়।
  2. কনটেন্ট রিভিউ করুন: Thin posts থাকলে এগুলো আপডেট/বিস্তৃতি করুন।
  3. পেইজগুলো যাচাই করুন: About/Contact/Privacy live আছে কি না চেক করুন।
  4. Copy-paste কনটেন্ট স্ক্যান করুন: Copyscape বা অন্য টুল দিয়ে চেক করুন—কপি থাকলে সরুন।
  5. Speed ও UX ঠিক করুন: intrusive popups, auto-play videos বাদ দিন।
  6. পুনরায় আবেদন: পরিবর্তনের ১০–১৫ দিন পর আবার আবেদন করুন।

অ্যাপ্রুভাল পরে করণীয়: নীতি মেনে আয় বাড়ানো

অ্যাপ্রুভাল মিললেই উদযাপন করবেন—কিন্তু এখান থেকে শুরু। নীচের বিষয়গুলো মেনে অর্গানিক ও স্থায়ী আয় বাড়ান।

প্রাথমিক সতর্কতা

  • ক্নিক জেনেরেট করার জন্য নিজে ক্লিক করবেন না—invalid click policy strictly enforced।
  • কোনো রকম click incentivization করবেন না।
  • Ads placement ইউজার-ফ্রেন্ডলি রাখুন—accidental clicks কমান।

আয় বাড়ানোর টিপস

  • High CPC টপিকগুলোতে গাইড/রিভিউ লিখুন।
  • Affiliate marketing যোগ করুন—ডাইভারসিফাইড ইনকাম দরকার।
  • Email list বানান—repeat visitors monetize করতে সহজ।
  • Sponsored content এবং digital products (ebooks, courses) consider করুন।

চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও FAQ

  1. Custom domain + SSL চালু আছে কি?
  2. About, Contact, Privacy, Disclaimer পেজ live আছে কি?
  3. কমপক্ষে ১৫–২৫ ইউনিক আর্টিকেল আছে কি (প্রতি 900+ শব্দ রেকমেন্ড)?
  4. Site responsive ও mobile-friendly?
  5. PageSpeed basic অপ্টিমাইজ করা আছে কি?
  6. Google Search Console ও Analytics সেটআপ করা আছে কি?

FAQ (কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন)

ক: আমি কত দিনে অ্যাপ্রুভাল পাব?

উ: সাধারণত ৭–১৪ দিন, তবে কখনো দ্রুত বা বেশি দিন লাগতে পারে।

ক: কতটা কনটেন্ট লাগবে?

উ: ১৫–২৫ মানসম্মত আর্টিকেল হলে ভালো—তবে quality সবসময় quantity থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইম্পর্ট্যান্ট রিসোর্স

  • Google AdSense official policy
  • PageSpeed Insights
  • Google Search Console
  • Google Analytics
  • Canva (featured image design)

উপসংহার — আপনার রোডম্যাপ

সংক্ষেপে—আপনি যদি পরিকল্পনা করে কাজ করেন, তাহলে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে অ্যাডসেন্স-এ আবেদন করার মতো যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব। রোডম্যাপ টি হর: ১ম মাস: ডোমেইন, টেমপ্লেট, ৫–৮ আর্টিকেল; ২য় মাস: ১০–১৫ আর্টিকেল, SEO; ৩য় মাস: ২০+ আর্টিকেল, ট্রাফিক নিয়ে আবেদন।

লিখেছেন: আপনার নাম | প্রকাশিত: আজকের তারিখ

প্রয়োজন হলে আমি HTML-টাকে Blogger-ready export করে দিতে পারি বা আপনার নাম ও ডোমেইন যুক্ত করে কাস্টমাইজ করে দিতেও পারি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url